পৃষ্ঠা 576
Al-Muddathir · 74:19–74:47
সূরা Al-Muddathir المدثر
فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ١٩
ধ্বংস হোক সে, কীভাবে সে (কুরআনের অলৌকিকতা স্বীকার করার পরও কেবল অহমিকার বশবর্তী হয়ে নবুওয়াতকে অস্বীকার করার) সিদ্ধান্ত নিল!
ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ٢٠
আবারো ধ্বংস হোক সে, সে সিদ্ধান্ত নিল কীভাবে!
ثُمَّ نَظَرَ ٢١
তারপর সে তাকালো।
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ٢٢
তারপর ভ্রু কুঁচকালো আর মুখ বাঁকালো।
ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ ٢٣
তারপর সে পিছনে ফিরল আর অহংকার করল।
فَقَالَ إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ ٢٤
তারপর বলল- ‘এ তো যাদু ছাড়া আর কিছু নয়, এতো পূর্বে থেকেই চলে আসছে।
إِنْ هَٰذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ ٢٥
এটা তো মানুষের কথা মাত্র।’
سَأُصْلِيهِ سَقَرَ ٢٦
শীঘ্রই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব।
وَمَا أَدْرَاكَ مَا سَقَرُ ٢٧
তুমি কি জান জাহান্নামের আগুন কী?
لَا تُبْقِي وَلَا تَذَرُ ٢٨
তা কাউকে জীবিতও রাখবে না, আর মৃত অবস্থায়ও ছেড়ে দেবে না।
لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ ٢٩
চামড়া ঝলসে দেবে।
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ ٣٠
সেখানে নিয়োজিত আছে ঊনিশ জন ফেরেশতা।
وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًا كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ ٣١
আমিই কেবল ফেরেশতাদেরকে জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক করেছি। আর তাদের (এই) সংখ্যাকে কাফিরদের জন্য একটা পরীক্ষা বানিয়ে দিয়েছি (কেননা তারা এ কথা বিশ্বাসই করতে পারবে না যে মাত্র ঊনিশ জন ফেরেশতা বিশাল জাহান্নামের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে) আর যেন কিতাবধারীগণ তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আর ঈমানদারদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবধারীগণ ও ঈমানদারগণ যেন কোন রকম সন্দেহের মধ্যে না থাকে। যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা আর কাফিররা যাতে বলে উঠে, ‘‘ এ ধরণের কথা দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?’’ এভাবে আল্লাহ যাকে চান গুমরাহ করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী (কারা এবং এর স্যখ্যা কত সে) সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। (জাহান্নামের) এ (বর্ণনা দেয়া হল) কেবল মানুষের নসীহত লাভের জন্য।
كَلَّا وَالْقَمَرِ ٣٢
(এটা) কক্ষনো (ভিত্তিহীন) না, চাঁদের কসম,
وَاللَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ ٣٣
রাতের কসম যখন তার অবসান হয়,
وَالصُّبْحِ إِذَا أَسْفَرَ ٣٤
প্রভাতের কসম- যখন তা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে,
إِنَّهَا لَإِحْدَى الْكُبَرِ ٣٥
এই জাহান্নাম বড় বড় বিপদগুলোর একটি,
نَذِيرًا لِّلْبَشَرِ ٣٦
মানুষের জন্য সতর্ককারী,
لِمَن شَاءَ مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ ٣٧
তোমাদের মধ্যে যে (কল্যাণের পথে) এগিয়ে যেতে চায় অথবা পেছনে পড়ে থাকতে চায় তার জন্য
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ٣٨
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।
إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ ٣٩
কিন্তু ডান পাশের লোকেরা নয়।
فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ ٤٠
তারা থাকবে জান্নাতে। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করবে
عَنِ الْمُجْرِمِينَ ٤١
অপরাধীদের সম্পর্কে
مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ ٤٢
‘কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে গেছে?
قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ ٤٣
তারা বলবে, ‘আমরা নামায আদায়কারী লোকেদের মধ্যে শামিল ছিলাম না,
وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ ٤٤
আর মিসকীনদেরকে খাবার খাওয়াতাম না,
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ ٤٥
আর আমরা (সত্য পথের পথিকদের) সমালোচনা করতাম সমালোচনাকারীদের সঙ্গে (থেকে)।
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ ٤٦
আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।
حَتَّىٰ أَتَانَا الْيَقِينُ ٤٧
আমাদের নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (অর্থাৎ মৃত্যু) না আসা পর্যন্ত।’
অনুবাদ: তাইসিরুল কুরআন