পৃষ্ঠা 577
Al-Muddathir, Al-Qiyamah · 74:48–75:19
সূরা Al-Muddathir المدثر
فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ ٤٨
তখন সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না।
فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ٤٩
তাদের হয়েছে কী যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?
كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ ٥٠
তারা যেন ভয়ে সন্ত্রস্ত গাধা,
فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍ ٥١
সিংহের সামনে থেকে পালাচ্ছে।
بَلْ يُرِيدُ كُلُّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَىٰ صُحُفًا مُّنَشَّرَةً ٥٢
বস্তুতঃ তাদের প্রত্যেকেই চায়, তাকে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) খোলা চিঠি দেয়া হোক (এই মর্মে যে, তোমরা এই নবীকে মেনে নাও)।
كَلَّا بَل لَّا يَخَافُونَ الْآخِرَةَ ٥٣
না, তা কক্ষনো হতে পারে না, বরং (কথা এই যে) তারা আখিরাতকে ভয় করে না।
كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ ٥٤
না, তা হতে পারে না, এটা (অর্থাৎ কুরআন সকলের জন্য) উপদেশবাণী।
فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ ٥٥
এক্ষনে যার ইচ্ছে তাত্থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক।
وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَىٰ وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ ٥٦
আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করবে না, তিনিই ভয়ের যোগ্য, তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।
সূরা Al-Qiyamah القيامة
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ ١
আমি কসম করছি ক্বিয়ামতের দিনের,
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ ٢
আমি আরো কসম করছি সেই মনের যে (অন্যায় কাজ ক’রে বসলে) নিজেকে ধিক্কার দেয় (যে তোমাদেরকে অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে)।
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُ ٣
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলোকে একত্রিত করতে পারব না।
بَلَىٰ قَادِرِينَ عَلَىٰ أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ ٤
কেন নয়, আমি তার আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত সঠিকভাবে বানিয়ে দিতে সক্ষম
بَلْ يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ ٥
কিন্তু মানুষ তার আগামী দিনগুলোতেও পাপাচার করতে চায়।
يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ ٦
সে জিজ্ঞেস করে, ‘ক্বিয়ামত দিবস কবে?’
فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ ٧
যখন চোখ ধাঁধিয়ে যাবে,
وَخَسَفَ الْقَمَرُ ٨
চাঁদ হয়ে যাবে আলোকহীন
وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ٩
সুরুজ আর চাঁদকে একত্রে জুড়ে দেয়া হবে,
يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ١٠
সেদিন মানুষ বলবে- ‘আজ পালানোর জায়গা কোথায়?’
كَلَّا لَا وَزَرَ ١١
মোটেই না, আশ্রয়ের কোন জায়গা নেই।
إِلَىٰ رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ ١٢
সেদিন ঠাঁই হবে (একমাত্র) তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।
يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ ١٣
সেদিন মানুষকে জানিয়ে দেয়া হবে সে কী (‘আমাল) আগে পাঠিয়েছে আর কী পেছনে ছেড়ে এসেছে।
بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ ١٤
আসলে মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে চাক্ষুসভাবে অবগত।
وَلَوْ أَلْقَىٰ مَعَاذِيرَهُ ١٥
যদিও সে নানান অজুহাত পেশ করে।
لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ ١٦
(এ সূরাহ অবতীর্ণ হওয়ার সময় আল্লাহর রসূল তা মুখস্থ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে আল্লাহ অভয় দিয়ে বললেন) তুমি তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিভ নাড়াবে না।
إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ ١٧
এর সংরক্ষণ ও পড়ানোর দায়িত্ব আমারই।
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ١٨
কাজেই আমি যখন তা পাঠ করি, তখন তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর।
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ ١٩
অতঃপর তা (ওয়াহীয়ে খফী বা প্রচ্ছন্ন ওয়াহীর মাধ্যমে) বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আমারই দায়িত্ব।
অনুবাদ: তাইসিরুল কুরআন