OnlineMushaf

পৃষ্ঠা 567

Al-Haqqah · 69:9–69:35

সূরা Al-Haqqah الحاقة

وَجَاءَ فِرْعَوْنُ وَمَن قَبْلَهُ وَالْمُؤْتَفِكَاتُ بِالْخَاطِئَةِ ٩

ফেরাউন আর তার পূর্ববর্তীরা আর উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা গুরুতর পাপে লিপ্ত ছিল।

فَعَصَوْا رَسُولَ رَبِّهِمْ فَأَخَذَهُمْ أَخْذَةً رَّابِيَةً ١٠

তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল, তখন তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন- অত্যন্ত কঠিন পাকড়াও।

إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاءُ حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ ١١

(নূহের বানের) পানি যখন কূল ছাপিয়ে সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করালাম।

لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ ١٢

যেন এ ঘটনাটিকে আমি তোমাদের জন্য শিক্ষাপ্রদ-স্মারক করে রাখি আর সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে।

فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ نَفْخَةٌ وَاحِدَةٌ ١٣

অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার।

وَحُمِلَتِ الْأَرْضُ وَالْجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةً وَاحِدَةً ١٤

পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে।

فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ١٥

সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য (মহা) ঘটনা।

وَانشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ ١٦

আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত।

وَالْمَلَكُ عَلَىٰ أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ ١٧

ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের ‘আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে।

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَىٰ مِنكُمْ خَافِيَةٌ ١٨

সেদিন তোমাদেরকে (বিচারের জন্য) হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না।

فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ ١٩

তখন যাকে তার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘এই যে আমার ‘আমালানামা পড়ে দেখ,

إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ ٢٠

আমি জানতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’

فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ٢١

অতঃপর সে আনন্দময় জীবন যাপন করবে,

فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ٢٢

উচ্চতম মর্যাদার জান্নাতে,

قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ ٢٣

তার ফলসমূহ (ঝুলে থাকবে) নীচে-নাগালের মধ্যে।

كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ ٢٤

(তাদেরকে বলা হবে) পরিপূর্ণ তৃপ্তির সঙ্গে খাও এবং পান কর বিগত দিনে তোমরা যা (নেক ‘আমাল) করেছিলে তার প্রতিদান স্বরূপ।

وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ ٢٥

কিন্তু যার ‘আমালনামা বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘হায়! আমাকে যদি আমার ‘আমালনামা না দেয়া হত,

وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ ٢٦

আর আমার হিসাব কী তা যদি আমি না-ই জানতাম,

يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ ٢٧

‘হায়! (দুনিয়ার) মৃত্যুই যদি আমার শেষ (অবস্থা) হত!

مَا أَغْنَىٰ عَنِّي مَالِيَهْ ٢٨

আমার ধন-সম্পদ আমার কোন কাজে আসল না,

هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ ٢٩

আমার (সব) ক্ষমতা আধিপত্য নিঃশেষ হয়ে গেছে,

خُذُوهُ فَغُلُّوهُ ٣٠

(তখন নির্দেশ আসবে) ধর ওকে, ওর গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও,

ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ ٣١

তারপর ছুড়ে ফেল ওকে জাহান্নামে,

ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ ٣٢

তারপর ওকে শিকল দিয়ে বাঁধ- সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে,

إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ ٣٣

সে মহান আল্লাহর উপর ঈমান আনেনি,

وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ ٣٤

আর না সে মিসকীনকে খাবার খাওয়াতে উৎসাহ দিত,

فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ ٣٥

কাজেই আজ এখানে তার কোন বন্ধু নেই,

অনুবাদ: তাইসিরুল কুরআন