পৃষ্ঠা 447
As-Saffat · 37:25–37:51
সূরা As-Saffat الصافات
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ ٢٥
‘তোমাদের হয়েছে কী, তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করছ না কেন?’
بَلْ هُمُ الْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ ٢٦
বরং আজ তারা (বিচারের সামনে) আত্মসমপর্ণ করবে।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ٢٧
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
قَالُوا إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ ٢٨
তারা (তাদের ক্ষমতাশালীদেরকে) বলবে, ‘‘তোমরা তো তোমাদের ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কাছে আসতে।’
قَالُوا بَل لَّمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ ٢٩
তারা (অর্থাৎ ক্ষমতার অধিকারীরা) উত্তর দিবে- ‘‘তোমরা তো (বিচার দিবসের প্রতি) বিশ্বাসীই ছিলে না।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَاغِينَ ٣٠
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্বও ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا إِنَّا لَذَائِقُونَ ٣١
আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে, আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তির স্বাদ নিতে হবে।
فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ ٣٢
আসলে আমরাই তোমাদেরকে গোমরাহ করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও গোমরাহ ছিলাম।’
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ ٣٣
সেদিন (দুর্বল আর সবল) সবাই ‘আযাবে শরীক হবে।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ ٣٤
অপরাধীদের প্রতি আমি এ রকমই (আচরণ) করে থাকি।
إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ ٣٥
তাদেরকে যখন ‘আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই’ বলা হত, তখন তারা অহংকার করত।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ ٣٦
আর তারা বলত, ‘‘আমরা কি এক পাগলা কবির কথা মেনে আমাদের ইলাহগুলোকে ত্যাগ করব?
بَلْ جَاءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِينَ ٣٧
বরং সে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)] সত্য নিয়ে এসেছে এবং (পূর্বে আগমনকারী) রসূলদেরকে সত্যায়িত করেছে।
إِنَّكُمْ لَذَائِقُو الْعَذَابِ الْأَلِيمِ ٣٨
(এখন তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা অবশ্যই মর্মান্তিক শাস্তির স্বাদ ভোগ করবে,
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ٣٩
তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা করতে।’
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ٤٠
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা নয় (তারা এ সব ‘আযাব থেকে রক্ষা পাবে)।
أُولَٰئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ ٤١
তাদের জন্য আছে নির্ধারিত রিযক-
فَوَاكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ ٤٢
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত।
فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ٤٣
(তারা থাকবে) নি‘য়ামাতের ভরা জান্নাতে
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ ٤٤
উচ্চাসনে মুখোমুখী হয়ে
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ ٤٥
তাদের কাছে চক্রাকারে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ প্রবাহিত ঝর্ণার সুরাপূর্ণ পাত্র।
بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ ٤٦
নির্মল পানীয়, পানকারীদের জন্য সুপেয়, সুস্বাদু।
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ ٤٧
নেই তাতে দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু, আর তারা তাতে মাতালও হবে না।
وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ ٤٨
তাদের কাছে থাকবে সংযত নয়না, সতী সাধ্বী, ডাগর ডাগর সুন্দর চক্ষু বিশিষ্টা সুন্দরীরা (হুরগণ)।
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ ٤٩
তারা যেন সযত্নে ঢেকে রাখা ডিম।
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ ٥٠
অতঃপর তারা পরস্পরের মুখোমুখী হয়ে একে ‘অপরের খবর জিজ্ঞেস করবে।
قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ ٥١
তাদের একজন বলবে- ‘‘(দুনিয়ায়) আমার ছিল একজন সাথী।
অনুবাদ: তাইসিরুল কুরআন