পৃষ্ঠা 449
As-Saffat · 37:77–37:102
সূরা As-Saffat الصافات
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ ٧٧
আর তার বংশধরদেরকেই আমি বংশানুক্রমে বিদ্যমান রাখলাম।
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ٧٨
আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
سَلَامٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ ٧٩
বিশ্বজগতে নূহের প্রতি সালাম/শান্তি বর্ষিত হোক।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ٨٠
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ ٨١
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাহদের একজন।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ ٨٢
অতঃপর অন্যদের আমি ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِ لَإِبْرَاهِيمَ ٨٣
অবশ্যই ইবরাহীম ছিল তারই দলের লোক।
إِذْ جَاءَ رَبَّهُ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ٨٤
সে যখন তার প্রতিপালকের কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে হাজির হল,
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَاذَا تَعْبُدُونَ ٨٥
সে তখন তার পিতাকে ও তার জাতিকে বলল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদাত কর?
أَئِفْكًا آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ ٨٦
তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মিথ্যে মা’বুদ পেতে চাও?
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ ٨٧
বিশ্ব জগতের প্রতিপালক সম্পর্কে তোমরা কী ধারণা পোষণ কর?
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِي النُّجُومِ ٨٨
অতঃপর তারকারাজির দিকে সে একবার তাকাল (অর্থাৎ চিন্তে ভাবনা করল)
فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٌ ٨٩
তারপর বলল, ‘‘আমি অসুস্থ।’’
فَتَوَلَّوْا عَنْهُ مُدْبِرِينَ ٩٠
অতঃপর তারা তাকে পেছনে রেখে চলে গেল।
فَرَاغَ إِلَىٰ آلِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ ٩١
তারপর সে চুপে চুপে তাদের উপাস্যদের কাছে ঢুকে পড়ল আর বলল, (আপনাদের সম্মুখে রাখা এত উপাদেয় খাবার) আপনারা খাচ্ছেন না কেন?
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ ٩٢
কী হয়েছে আপনাদের, কথা বলছেন না কেন?
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًا بِالْيَمِينِ ٩٣
অতঃপর সে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সজোরে আঘাত করল।
فَأَقْبَلُوا إِلَيْهِ يَزِفُّونَ ٩٤
তখন লোকেরা (ফিরে এসে) তার দিকে ছুটে আসল।
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ ٩٥
সে বলল, ‘‘তোমরা (পাথর) খোদাই করে সেগুলো নিজেরা বানাও, সেগুলোরই আবার ‘ইবাদাত কর?
وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ ٩٦
আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে আর তোমরা যা তৈরি কর সেগুলোকেও।
قَالُوا ابْنُوا لَهُ بُنْيَانًا فَأَلْقُوهُ فِي الْجَحِيمِ ٩٧
তারা বলল, ‘তার জন্য একটা অগ্নিকুন্ড তৈরি কর, অতঃপর তাকে আগুনে নিক্ষেপ কর।’
فَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَسْفَلِينَ ٩٨
তারা তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাদেরকে এক্কেবারে হীন করে ছাড়লাম।
وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّي سَيَهْدِينِ ٩٩
সে বলল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের দিকে চললাম, তিনি আমাকে অবশ্যই সঠিক পথ দেখাবেন।
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ ١٠٠
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান কর।
فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ ١٠١
অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ ١٠٢
অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম (আঃ) বলল, ‘বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন।
অনুবাদ: তাইসিরুল কুরআন